আমাদের সম্পর্কে

তরুন যেহেতু একটা পথ চলে না, সবাইকে নিয়ে এগুতে চায় তাই এ সংগঠনের মূলমন্ত্র হলো শেয়ারিং।এই সংগঠনের দর্শন হল মুক্ত দর্শন। অনেকে মুক্ত দর্শনকে মুক্ত সফটওয়্যারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। আসলে মুক্ত বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যার হল মুক্ত দর্শনের সফটওয়্যার। সফটওয়্যারের কারনে অনেকে ভাবেন এটি বুঝি কেবল সিএসই শিক্ষার্থী বা কম্পিউটার প্রকৌশলীদের সংগঠন!আসলে তা নয়। তবে, বিডিওএসএনে তাদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে দুটি কারণে। এক নম্বর কারণ হল তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া এযুগের তরুনদের এগিয়ে যাওয়াটা কঠিন। তথ্য প্রযুক্তির নতুন সবকিছু আয়ত্বে রাখার কাজটাতে তাদের একধরণের প্রাধান্য থাকে। থাকার কথাই। আর দ্বিতীয় কারণ হল আমরা যারা শুরু করেছিলাম তারা সবাই কমবেশি তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। এখন অবশ্য বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে জড়িত। তো যুক্ত হওয়ার ধরণ বুঝতে হলে এর নিয়মিত কার্যক্রমগুলো বোঝা দরকার-

ক. সক্ষমতার উন্নয়ন- একুশ শতকের লড়াই-এ জিততে হলে দক্ষ আর সক্ষম হতে হবে। আমাদের কর্মকাণ্ডের বড় অংশ জুড়ে তাই রয়েছে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং। সেমিনার, প্রশিক্ষণ, বুট ক্যাম্প, কর্মশালা- নানান বিষয়ের, নানান ধরণের। উদ্দেশ্য একটাই দক্ষ মানবসম্পদ।

খ. মুক্ত কন্টেন্টের বিকাশ ও প্রসার- মুক্ত কন্টেন্টের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল উইকিপিডিয়া। বিডিওএসএনের একটি কাজ হলো উইকিপিডিয়াকে এগিয়ে নেওয়া। এজন্য ক্যাম্পেইন, শোভাযাত্রা, সমাবেশ, লেখালেখি যেমন করা হয় তেমনি উইকি ক্যাম্প ইত্যাদির মাধ্যমে উইকিকে কাজ করার স্বেচ্ছাসেবী তৈরিতে কাজ করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি আর পহেলা বৈশাখের সমাবেশ এখন এই ক্যাম্পেইনের দুইটি বাৎসরিক প্রোগ্রাম যা গত ৬ বছর ধরে হচ্ছে।

গ. মুক্ত সফটওয়্যার প্রচার, বিতরণ, লোকালাইজেশন- মুক্ত সফটওয়্যার বিতরণের কাজটি করা হয়। যদিও লোালাইজেশনের কাজ ইদানিং ঝিমিয়ে পরেছে অনেকখানি।

ঘ. প্রযুক্তি মেলা – বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেসব প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করে বিডিওএসএন তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভালবাসে।

ঙ.উদ্যোক্তা উন্নয়ন – তরুন সমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বৃদ্ধ করার জন্য বিডিওএসএন কাজ করে। কয়েকবছর আগে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংকে জনপ্রিয়করার জন্য বিডিওএসএন যে কর্মকাণ্ড শুরে করে সেটা এখন নানান দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।বতর্মানে আধুনিক পেশাজীবী তৈরি করার জন্য কাজ করছে এই সংগঠন। এ ব্যাপারে আমাদের একটি আন্দোলনের নাম চাকরি খুজবো না, চাকরি দেবো।

চ. তামাক (মাদক) বিরোধী কর্মকাণ্ড – বিডিওএসএন যেহেতু তারুণ্যের বিকাশ চায় সেহেতু যা যা তারুণ্যকে ধ্বংস করে তার বিরোধীতা করে। দেশের বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তামাকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা এবং সেটিও বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করেছে বিডিওএসএন।

ছ. এছাড়াও এর আরো কিছু কার্যক্রম রযেছে। এখন যেমন ব্যান্ডউয়িডথের জন্য আন্দোলন।



কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত ও পরিকর।পনা হয় নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে-

কংগ্রেম – প্রতি দুইবছরে (বেজোড় বছরে) একবার হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন ভিন্ন সংগঠনের অন্যান্য কার্যক্রমের বিশ্লেষন। ২০১১ থেকে শুরু হয়েছে।

কাউন্সিল –প্রতি দুইবছরে। মূলত নতুন কমিটি গঠন ও বার্ষিক সাধারণ কাউন্সিল।



বিডিওএসএন এই কর্মকাণ্ডগুলোর সাংগঠনিক পদ্ধতি—



১. একটি নির্বাহী কমিটি আছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনের একটি কমিটি।

২, কোর সদস্য – যারা নিয়মিত এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাদের মধ্য থেকে এই কোর গ্রুপ গঠিত হয়। এটি ইনফরমাল গ্রুপ। স্থানীয় ওএসএনের দুইজন এই গ্রুপের সদস্য থাকেন।

৩. স্থানীয় ওএস্এন – বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন এলাকায় কমপক্ষে ৭ জন যদি বিডিওএসএ্নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে একাত্মবোধ করেন এবং নিজের এলাকায় অনুরুপ কার্যক্রম চালু করতে চায় তাহলে নিজেরা স্থানীয় ওএসএন গঠন করতে পারে। কেন্দ্রীয় কমিটি শুরুতে একটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করে। পরবর্তী সময়ে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় ওএসএনের সকল সদস্য সংগঠনের সদস্যের মর্যাদা পায়। যে সকল ওএসএনের আহবায়ক কমিটি রয়েছে তারা একজন এবং পূর্নাঙ্গ কমিটি দুইজন কাউন্সিলার নির্বাচন করতে পারে।

৪. আগ্রহী ব্যক্তির এলাকায় যদি কোন স্খানীয় নেটওয়ার্ক না থাকে তাহলে আগ্রহী ব্যক্তি স্বতন্ত্র সদস্য হতে পারেন। এ জন্য একটি ফরম পূরণ করে বার্ষিক সদস্য ফি দিতে হয়। স্বতন্ত্র সদস্যরা কেন্ত্রীয় কাউন্সিলের এক তৃতীয়াংশ কাউন্সিলর নির্বাচন করতে পারে। জুলাই ১, ২০১২ থেকে স্বতন্ত্র সদস্যদের ডেটাবেস এবং অন্যান্য বিষয়াদি হালনাগাদ করা হবে।

৫. পৃষ্ঠপোষক সদস্য – এটি হলো যারা সংগঠনকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষক চাঁদা দেন তারা। এরা স্বতন্ত্র সদস্যের মর্যাদা পান।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য : কোন সংগঠন যা যুবাদের উন্নয়নের কাজে যুক্ত তারা ইচ্ছে করলে বিডিওএসএনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। কোন যৌথ কাজের জন্য অথবা খালি যুক্ত থাকার জন্য। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে এবং কংগ্রেসে অবজারভার পাঠাতে পারে।

৭. সমর্থক, সমালোচক বা নিন্দুক – বিডিওএসএন কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ, কয়েকটি ইমেইল গ্রুপ পরিচালনা করে। সেগুলোতে যোগ দিলেই সমর্থক বা সমালোচক বা নিন্দুক হওয়া যাবে। এই গ্রুপগুলোতে থাকলে তারা নিয়মিত আপডেট পাবেন।

আশাকরি কাজ, কাজের ধরণ এবং কারা বিডিওএসএনের কাজ করে তা অনেকাংশে বোঝা গেছে।



বিডিওএসএনের ট্যাগ লাইন – স্বাধীনতার জন্য সব প্রজন্মকে রুখে দাড়াতে হয়েছে। এখন আমাদের পালা।



সংগঠন সংগীত – কাজি নজরুলের কারার ঐ লোহ কপাট।



বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ- বিডিওএসএন কোন এনজিও নয় এবং এটি দেশে বা দেশের বাইরে থেকে কোন প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ড নেয় না। সদস্যদের চাঁদা এবং কখনো কখনো কিছু স্পন্সরশীপের বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে এর কাজ চলে।কাজে যুক্ত হলে নিজের গাঁটের পয়সা খরচ হবে এটি নিশ্চিত!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন